পোস্টগুলি

গল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মায়াবী নদী - স্বপ্না ফাতেমা

ছবি
মিনি হঠাৎ থেমে গেল। সামনেই একটা নদী। নদীটির নাম মায়াবী নদী। ছোটবেলা থেকেই মিনি শুনে এসেছে , এই নদীর কাছে যারাই গিয়েছে তারা আর কখনো ফিরে আসে নি। কিন্তু মিনি এটা বিশ্বাস করতে চায় না। সে খুব সাহসী। মিনি তার পরিবারকে একদম পছন্দ করে না। মাঝে মাঝে তার ইচ্ছা করে দূরে কোথাও চলে যেতে। কিন্তু এতুটুকুন মেয়ে যাবেই বা কোথায়। মিনির একটা সমস্যা আছে। সে খুব জেদি। তার যখন যেটা ইচ্ছা হবে , সেটাই সে করবে। তাকে কেউ তার কথা থেকে নাঁড়াতে পারে না। মিনি মায়াবী নদীর কিনারা ধরে হাঁটতে লাগলো। নদীর দু’ধারে গাছ। প্রতিটি গাছেই রয়েছে নাম না জানা অসংখ্য পাখি। কোনো কোনো পাখি পাখা মেলে উড়াল দিচ্ছে। আবার কিছু পাখি ফিরে আসছে। মিনির চোখে পড়লো , কিছুটা দূরেই রয়েছে একটা মাঁচা। মাঁচাটি দেখে ভাবলো , এখানে তো কেউ আসেই না। তাহলে এই মাঁচা আসলো কোথা থেকে ? মাঁচাটিকে ছায়া দিয়ে বিশাল একটি বটগাছ। এত চওড়া আর লম্বা বটগাছ এই প্রথম দেখলো মিনি। মিনি মাঁচাটিতে খানিকক্ষণের জন্য বসলো। নদীর পাশের এই ঘন জঙ্গলে হয়তো ভূতেরাই বাস করে। এমনটাই ভাবলো মিনি। মিনি খেয়াল করলো , অদ্ভূত এক ঘ্রাণ তাকে মোহিত করে দিচ্ছে। সে আগে কখনো এমন ঘ্রাণ অনুভব করে ...

আমাদেরকে কি কেউ উদ্ধার করবে? – আব্দুর রহমান আল হাসান

ছবি
  ছবির মতন সুন্দন আমাদের স্বপ্নচূড়া গ্রামটি। প্রকৃতির অপার দান এই ভূমি। মাঠে মাঠে ধান, গম, পাট চাষ হয়। দৃষ্টির শেষ সীমায় ও ফসলি জমি শেষ হয় না। গ্রামের পূর্বকোণে আমাদের বসবাস। এদিকে এককালে নদী ছিল। কিন্তু এখন তা শুকিয়ে ৪০ কি.মি. দূরে চলে গেছে। আমার দাদা ছিলেন গ্রামের হাইস্কুলের শিক্ষক। বাবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে গ্রামে ফসল ফলান। আমাদের প্রায় ৪০ একর জমি আছে গ্রামে। সেদিনও প্রতিদিনকার মতো স্কুলে গেলাম আমি। হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। স্কুল ব্যাগটি মাথায় নিয়ে দৌড়িয়ে গেলাম স্কুলে। আজকে আমাদের পাশের গ্রামের সাথে ফুটবল খেলা আছে। স্কুলে আসতেই দেখি কেমন যেন খালি খালি লাগছে স্কুল প্রাঙ্গন। ভাবলাম, হয়তো বৃষ্টি বলে তারা পরে আসবে। আমি গিয়ে ক্লাসরুমে বসলাম। কিছুক্ষণ পর তানিশা আসলো। সে আমার চাচাতো বোন। তাদের বাড়ি স্কুল থেকে খানিকটা দূরে। আমরা তখন মেঝেতে বসে মার্বেল দিয়ে খেলছিলাম। পিয়ন ক্লাসের ঘন্টা বাজিয়ে দিল। কিন্তু এখনো কেউ আসে নি। অপেক্ষা করতে লাগলাম আমি। খুব রাগ হচ্ছিল, আজকে খেলা ছিল বলে। আধ ঘন্টা পর বাংলা স্যার বৃষ্টিতে ভিজে জবুথবু হয়ে আসলেন। স্যার এসে দেখেন, আমরা দুইজনই আছি। তিন...

সেই দিনটি বুধবার - হালিমাতুস সাদিয়া

ছবি
চারিদিকে কুঁয়াশা। ঝিরঝিরে ঠাণ্ডা হাওয়া। সপ্তাহের শেষের দিকের দিন আজ। আগামীকাল বৃহষ্পতিবার। আমি এখনো আজকের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাটা ভুলতে পারছি না। বিশ্বাস করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে যে , আমি বেঁচে আছি। আমি তো জীবনের আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। ঘটনাটা খুবই ভয়ঙ্কর ছিল। আমি এবং আমার কিছু বান্ধবী মিলে দুপুরবেলায় বাড়ির দক্ষিণ দিকের বাগানে হাঁটছিলাম। আমরা ছিলাম চারজন। আমি , সামিয়া , রিমা আর আয়েশা। আমাদের বাড়ির পাশের বাগানটি অনেক বড়। ছোটবেলায় অনেক ভুঁতুড়ে গল্প শুনেছি এই বাগান নিয়ে। এখানে নাকি একটা মানুষখেকো ব্যক্তি বাস করে। কেউ এই বাগানে প্রবেশ করলে সে তাকে ধরে আস্ত চিঁবিয়ে খায়। আমরা বাগানে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে পথ হাঁরিয়ে ফেললাম , নিজেও খেয়াল করি নি। হঠাৎ নীড়ে ফেরা পাখিদের দেখে আমরা হুশে ফিরে আসলাম। হাতঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সাড়ে পাঁচটা বাজে। রিমা বললো , চল আমরা বাড়ি ফিরে যাই। সকলেই রাজি হলাম। ফিরতি পথ ধরতেই বুঝতে পারলাম , আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। রিমা আতঙ্কিত গলায় বললো , এই জায়গাটা তো একবারেই অচেনা লাগছে। এখন এখান থেকে বের হবো কিভাবে ? সামিয়া কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললো , আমরা পথ হাঁরিয়ে ফেলেছি। এখন বের হবো কিভাবে ...

অচেনা আগন্তুক - হাবিবুল্লাহ বাহার

ছবি
  রাফি নামে এক যুবক থাকত আমাদের গ্রামে । খুবই ভদ্র। আমরা যখন মাঠে গিয়ে খেলতাম তখন মোবারক নামের এক চাচা আমাদের খুবই বকতেন। মাঝে মধ্যে লাঠি নিয়ে তেড়ে আসতেন। রাফি তখন বলত , আহা চাচা! তারা খেলুক না ,  আপনার তো কোন সমস্যা হচ্ছে না । তখন চাচা কিছুই বলতেন না। চুপ হয়ে যেতেন। কারণ , সেই ব্যক্তি ছিলেন রাফির আপন চাচা। যখন তার তিন বছর বয়স তখন তার মা মারা যায়। ‌তার বাবা থাকতেন অষ্ট্রেলিয়ায়। তাই তার চাচারা তাকে লালন পালন করতেন। তবে মোবারক চাচা তাকে সবচেয়ে বেশি লালন-পালন করেন। যখন তার বয়স নয় বছর , তখন তার বাবা বিদেশ থেকে দেশে আসার জন্য রওয়ানা হন। আসার পথে বিমান দুর্ঘটনায় তিনিসহ আরো তিনশত যাত্রী মৃত্যুবরণ করেন। রাফির বয়স এখন ২২ বছর। তার চাচা রোকেয়া নামের একটি মেয়ে সাথে রাফির বিয়ে ঠিক করেন। পরবর্তীতে বিয়েও হয়। বিয়ের একদিনের মাথায় রাফির সাথে তার স্ত্রীর প্রচন্ড ঝগড়া হয়। পরে ঝগড়ার কথা তার স্ত্রী তার বান্ধবীদের বলে। সাথে আরো কিছু বানিয়ে যোগ করে। তখন তার বান্ধবীরা তাকে কু-বুদ্ধি দেয় , ' তোর স্বামীকে রাতের খাবারে বিষ দিয়ে মেরে ফেল ' । রোকেয়াও তার স্বামীকে বিষপান করায়। এতে রাফি মারা যায়। রাফির দ...

ইলমা - সারাবান তাহুরা ঈশান

ছবি
যুলি কোথায় যাচ্ছ ? পিছন থেকে হঠাৎ ডাক শুনে একটু ভয় পেয়ে গেল সে। তাকিয়ে দেখল কেউ নেই সেখানে। চমকে উঠলো যুলি। পেছনে তো কিছুই নেই। কিন্তু সে তো দেখেছে জামগাছের নিচে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল । তার মুখ ঢাকা ছিল সাদা কাপড় দিয়ে। হঠাৎ সামনে থাকা বটগাছটার দিকে তাকাল সে। দেখতে পেল বটগাছের চূড়ায় একটা মেয়ে পা হেলিয়ে বসে আছে । কিন্তু পরক্ষণেই সে চলে গেল কোথায় যেনো। ভয় পেয়ে যুলি দৌড় দিবে বলে মনস্থির করলো , ঠিক তখনি সামনের দিকে তাকিয়ে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না! সামনে তো কবরস্থান। এখন কি করবে ? পেছন ফিরে দৌড় দিলো সে। তখুনি দেখলো, একটি মেয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। আশেপাশের কোথা থেকে যেন ইলমার চিৎকার শোনা গেলো। জুলি "কি হয়েছে" বলে চেঁচিয়ে উঠলো। ইলমা দৌঁড়িয়ে এলো জুলির নিকট। ইলমা ভয়ে জুলিকে জড়িয়ে ধরল , জুলিও ধরল। এমন সময় জুলির মনে হল , এটা ইলমা না , এটা অন্য কেউ। কিন্তু সে কিছুই বুঝতে পারছে না। ইলমা নিজের চোখটা না দেখিয়ে পিছনে ফিরে বলল , যুলি! এত সকালে তুমি এখানে কি করছ ? জুলি বললো এমনিতেই আসলাম। ইলমা বলল , আচ্ছা সন্ধ্যা বেলা আসতে পারবে ? জুলি বললো কোথায় ? ইলমা বলল , কবরস্...

ফলাফল - ফাতেমা উম্মে হাবিবা

ছবি
ফাহিম বললো , মা আর এক সপ্তাহ পর আমাদের পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবে। মা আফরিন আক্তার বললেন , যদি তোমার রেজাল্ট ভালো হয় তাহলে তোমাকে একটা সাইকেল কিনে দিবো। ফাহিম খুশিতে লাফিয়ে উঠলো। খুশিতে ফাহিম তার রুমে গিয়ে দরজা আঁটকে দিয়ে উত্তেজনায় লাফাতে থাকে। একসপ্তাহ পরের কথা। আজ ফাহিমের পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে । ফাহিমের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ছাত্র-ছাত্রী পয়তাল্লিশ জন। ফাহিম এর মধ্যে একচল্লিশতম স্থান অর্জন করেছে। একবার যদি মা জেনে যায় তবে যে কি হবে! আর বাবা জানলে ...! কথাটা মনে হতেই ফাহিমের বুক কেঁপে উঠলো। ফাহিম তার বইয়ের আলমারি খুলে একটি বই বের করে। বইটার নাম , জলে ডাঙ্গায়। ফাহিম বইটি খুলে পড়তে লাগলো। প্রায় দশ মিনিট পর রুমের দরজায় কে যেন টোকা দিলো। ফাহিমের বুক দুরুদুরু করতে লাগলো। তাড়াতাড়ি করে বইটা আলমারির মধ্যে রেখে দরজা খুলে দেখে তার মা আফরিন আক্তার দাঁড়িয়ে আছেন। ফাহিম বললো , কিছু বলবে মা ? তার মা বললেন , তুই দরজা আঁটকে রেখেছিলি কেন ? ফাহিম ভয়ে ভয়ে বললো , এমনিই আঁটকে রেখেছিলাম। আফরিন আক্তার বললেন , আচ্ছা তাই! এখন তাহলে ভাত খেতে আয়। ফাহিম আস্তে আস্তে খাবার টেবিলে বসে খাওয়া শুরু করলো। পরেরদিন ফাহি...

দেয়াল - মোসাঃ আনিকা তাহসিন

ছবি
একদিন এক কলেজে প্রচন্ড ভূমিকম্প হলো । আর এই ভূমিকম্পে আশেপাশের অনেক বিল্ডিং ধ্বসে পড়তে লাগলো । সেই কলেজের ভবনগুলোয় বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হলো। তাই সেই কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ ছেড়ে প্রায়ই সকলেই চলে গেল । এখানে একসাথে চারজন বান্ধবী পড়াশোনা করে । তারা কাছেই কলেজের একটি ছাত্রাবাসে থাকে। যেহেতু তারা অনেক দূরের গ্রাম থেকে লেখাপড়া করতে এসেছিলো , তাই তারা আর কলেজ ছেড়ে যাওয়া হয়নি। কারণ সেখান থেকে চলে গেলে থাকবে কোথায় ? এক রাতে তারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সে সময় হঠাৎ সীমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে দেখতে পেল , ওয়াসরুমের টিউব কলটি থেকে একা একা পানি পড়ছে। অথচ কলটা খুব শক্তপোক্ত । সে ভাবলো , কেউ হয়তো   কলটা ভালোভাবে বন্ধ করেনি , তাই পানি পড়ছে। সে উঠে গিয়ে কলটি ভালোভাবে বন্ধ করে আসলো । কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবারো শুনতে পেল কল থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে। সে তখন ভয়ে জড়সড় হয়ে গেল। সাথে সাথে অন্য বান্ধবীদের ডেকে তুলে বললো , ‘ দেখ দেখ! এই কল থেকে কেন যেন নিজে নিজেই পানি পড়ছে ’ । তাদের মধ্য থেকে রীমা বললো , ‘ ব্যাটা অকর্মার ঢেঁকি ! এত কম বুদ্ধি নিয়ে কি কেউ চলে ? ‘ আরে কল থেকে পানি পড়ছে , তা কলটা বন্ধ করে দিল...

সেই দিনটি - মোসাঃ আয়েশা সিদ্দিকা মেহনাজ

ছবি
  তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি । একদিন আমরা চারজন ক্লাসমেন্ট মাদরাসার নিচ তলায় পড়তে গিয়েছি । দিনটি ছিল বুধবার । আমরা ক্লাস শেষে নিচ তলায় গেলাম। কোনো এক কারণে আমরা সবাই তখন আতঙ্কিত ছিলাম। আমরা সাধারণত থাকতাম তিন তলায়। তাই আমরা যখন সিঁড়ি দিয়ে নামছি , সে সময় হঠাৎ করেই কারেন্ট চলে যায় । আর সিঁড়ির জায়গাটা অন্ধকার হওয়ায় সেখানে দিনের বেলায় ও লাইট জ্বালানো থাকতো । কারেন্ট যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা অনেক ভয় পেয়ে গেলাম । এরই মধ্যে আমাদের সহপাঠী হাবিবার মাথা ঘুরিয়ে উঠলো । আমরা সাথে সাথে তাকে ধরলাম । কিন্তু এরই মধ্যে কারেন্ট এসে আবার চলে গেল । এরপর থেকে আমরা হাবিবাকে পাচ্ছিলাম না । তখন নীচ তলায় কোনো শিক্ষকও ছিল না । আমরা সবাই অনেক জোরে চিৎকার দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আবার কারেন্ট চলে এলো।তখন দেখলাম , হাবিবা আমাদের পাশেই দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । এরপরে আমরা আর এক মুহুর্তও সিঁড়িতে না দাঁড়িয়ে নীচ তলায় চলে এলাম । নীচে এসে আমরা পড়তে বসলাম । সবাই ক্লান্ত , এই ক্লান্তি দূর করতে ওয়াশরুমে গেলাম ওজু করতে । এতে সওয়াবও হবে আবার হাত-মুখ ধোয়াও   হবে । কিন্তু আমরা অজু করে এসে দেখি , নীচ তলায় কেউ নে...

স্বপ্ন - ফাতেমা উম্মে হাবিবা

ছবি
‘ রিমা , কি করছো ?’ বলে উঠলো সামিয়া । রিমার হুশ ফিরলো এতক্ষণে। সে পুতুল নিয়ে খেলছিল । রিমা সামিয়াকে দেখে বললো , ’ আপু , তুমি আবার কখন আসলে ? এ সময় না তোমার স্কুলে থাকার কথা ?’ সামিয়া মুচকি হেসে বললো , ’ আজকে শুক্রবার , জানো না ?’ ’ নাহ , ভুলেই গিয়েছিলাম । ’ ’ ও আচ্ছা , কিন্তু কেন যে এখানে এসেছি , মনে করতে পারছি না । ’ বললো সামিয়া । ” ও হ্যাঁ , মনে পড়েছে । তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিতে এসেছি । ” এ কথা শুনে রিমা খুব খুশী হলো এবং পুতুলগুলো গুছিয়ে রেখে দিলো । রিমা বললো , ‘ কি সারপ্রাইজ আপু ?’ সামিয়া বললো , ‘ দুপুরে আমরা নদীর পাড়ে যাবো । কথাটা শুনে রিমা খুশিতে লাফিয়ে উঠলো । কিছুক্ষণ পর নীল আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে কালো আকাশে রুপান্তরিত হলো । প্রচন্ড বাতাসের কারণে ঘরের বাহিরে যাওয়া যাচ্ছিলো না। বর্ষাকালে এই এক অসুবিধা । বলা নেই , কওয়া নেই , ঝঁপ করে বৃষ্টি নেমে পড়ে । তখনি হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর পাশাপাশি প্রচণ্ড জোরে একটা বাজ পড়লো। ঘরের সবাই ভয় পেয়ে গেল । রিমা বৃষ্টির সময় কখনো জাগ্রত থাকে না । যখনি বৃষ্টি আসবে আসবে ভাব তখনি সে ঘুমিয়ে পড়ে । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো , সে ঘুমিয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারে...

গাছের পাতা - মোসা. আমেনা হালিমা সাদিয়া

ছবি
অনেকদিন আগের কথা । আমি আর আমার বন্ধু আমার নানার বাড়ি গিয়েছিলাম । আমার নানার একটা মুরগী ছিল । আমি সেটাকে ধরতে গেলাম । তখন সেই মুরগীটি পালিয়ে গেল । এরপরে নানা বললেন , তুমি যেহেতু সর্বপ্রথম মুরগি ধরেছো , তাই মুরগীটি ভয় পাচ্ছে । আমি এরপর দেখলাম , মুরগীর পাশে একটা ছাগল ভ্যাঁ ভ্যাঁ করছে । আমি নানাকে জিজ্ঞাসা করলাম , নানা! ছাগল কী খায় ? নানা মুচকি হেসে বললেন , ' ছাগল কাঁঠাল পাতা খায় ' । কিছুদিন পর আমরা নানাবাড়ি থেকে চলে আসি। তখন আমি আমার বড়বোনকে বললাম , আপু আমি আমার নানাবাড়িতে দেখেছিলাম , ছাগল লতা-পাতা খায় । তখন আমার বন্ধু মীম বললো , তো কি হয়েছে ! আমার ঘরেও তো ছাগল আছে । আমাদের ঘরে একটা বিড়ালও আছে । আমি তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম , বিড়াল কী খায় ?   মীম বললো ,' বিড়াল কাঁটা , দুধ , মাছ খায় ' । একদিন আমি বাসার ছাদে গেলাম । দেখি আমার টবে ফুল ফুঁটেছে । তখন আমি একটি ফুল ছিঁড়ে নিলাম । মীম এটা দেখে আমাকে বললো , ' তুমি কি ফুলের সাথে পাতাও ছিঁড়েছ ' ?   আমি বললাম , ' হ্যাঁ ' ।   মীম তখন বললো , তুমি কি জানো না , গাছ পাতা ছিঁড়লে কষ্ট পায় ? আমি বল...

ইচ্ছেপূরণ - আব্দুর রহমান আল হাসান

ছবি
  সালমানের বড় ইচ্ছা , সে আলেম হবে। কিন্তু সে তো স্কুলে পড়ে । বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে । তার ইচ্ছা সে আল্লাহকে চিনবে । সে রাসূলের সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করবে । গত তিনদিন আগে তার এলাকায় তাবলীগ জামাতের সাথিরা এসেছিল । কি সুন্দর তাদের চলাফেরা । বড্ড ইচ্ছা করে তাদের সামনে বসে থাকতে । এমন প্রশান্তি সে আগে কখনো অনুভব করে নি । আজকে ফজরের পর যখন তারা চলে যাবে সে তখন তাদের আমীর সাহেবকে বলেছিল , হুজুর , আমি কি কোরআন বুঝতে পারবো ? উক্ত মাওলানা সাহেব মিষ্টি করে হেসে বলেছিলেন , কেন নয় ? চেষ্টা করো । সফলতার মালিক আল্লাহ । তারপর সেই ব্যাক্তিরা চলে গেল । সালমান আবার স্কুলে আসা-যাওয়া শুরু করলো । তার বাবা জামিল সাহেব একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করেন । গত কিছুদিন ধরেই সালমান লক্ষ করছে , তার বাবা আগের মতো নামাজ পড়ে না । নামাজের সময় হরে তিনি কেমন যেন আত্মগোপনে থাকেন । মসজিদে নামাজ শেষ হয়ে গেলে আবার দিব্যি চলাফেরা করেন । বিষয়টা সালমানকে ভাবিয়ে তুলে । কিন্তু কিভাবে সে জানতে পারবে , তার বাবার কি হয়েছে ? বুদ্ধি করে সে তার আম্মুকে বললো , মা আমি তো চাই আল্লাহকে চিনতে এবং রাসূলের ...