দেয়াল - মোসাঃ আনিকা তাহসিন


একদিন এক কলেজে প্রচন্ড ভূমিকম্প হলো আর এই ভূমিকম্পে আশেপাশের অনেক বিল্ডিং ধ্বসে পড়তে লাগলো সেই কলেজের ভবনগুলোয় বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হলো। তাই সেই কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ ছেড়ে প্রায়ই সকলেই চলে গেল এখানে একসাথে চারজন বান্ধবী পড়াশোনা করে তারা কাছেই কলেজের একটি ছাত্রাবাসে থাকে। যেহেতু তারা অনেক দূরের গ্রাম থেকে লেখাপড়া করতে এসেছিলো, তাই তারা আর কলেজ ছেড়ে যাওয়া হয়নি। কারণ সেখান থেকে চলে গেলে থাকবে কোথায় ?

এক রাতে তারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সে সময় হঠাৎ সীমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে দেখতে পেল, ওয়াসরুমের টিউব কলটি থেকে একা একা পানি পড়ছে। অথচ কলটা খুব শক্তপোক্ত সে ভাবলো, কেউ হয়তো  কলটা ভালোভাবে বন্ধ করেনি, তাই পানি পড়ছে। সে উঠে গিয়ে কলটি ভালোভাবে বন্ধ করে আসলোকিন্তু কিছুক্ষণ পর আবারো শুনতে পেল কল থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে। সে তখন ভয়ে জড়সড় হয়ে গেল। সাথে সাথে অন্য বান্ধবীদের ডেকে তুলে বললো, ‘দেখ দেখ! এই কল থেকে কেন যেন নিজে নিজেই পানি পড়ছে তাদের মধ্য থেকে রীমা বললো, ‘ব্যাটা অকর্মার ঢেঁকি ! এত কম বুদ্ধি নিয়ে কি কেউ চলে ? ‘আরে কল থেকে পানি পড়ছে , তা কলটা বন্ধ করে দিলেই তো হয়!সীমা বললো, আরে ! আমি তো একবার বন্ধও করেছিলাম তারপরও পানি পড়ছে। এ কথা শুনে সবাই ভয় পেয়ে গেল শারমিন বললো, ‘ওই! তোরা রাতে এসব ভৌতিক কথাবার্তা বলিস না। চল! ঘুমিয়ে যাই৷ এই বলে তারা যখন ঘুমানোর জন্য বিছানায় শুতে যাবে, তখন দেখে ফাইজা হঠাৎ নেই শারমিন বললো, ‘আরে ফাইজা! কোথায় যে গেল ?

সীমা তখন বললো, ‘আমি তো জানি না। তখনই দেখা গেল, রীমাও নেই। এতে শারমিন এবং সীমা খু্বই ভয় পেয়ে গেল একটু পর আবার ফাইজা আর রিমাকে দেখা গেল কিন্তু কেউ কাউকে ছুঁতে পারছিলো না। যেন একটা অদৃশ্য দেয়াল তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। সকলেই ভয়ে-আতঙ্কে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলো এরই মধ্যে ফাইজা ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল তারপরে রাত যে কিভাবে কাঁটলো , তা শুধু আল্লাহই জানেন। সকালবেলা সবাই ঘুম থেকে উঠে যে যার বাড়ির দিকে রওনা হলো। এই শহরে আর থাকার প্রয়োজন নেই হয়তো কখনো যদি আবার পূর্বের মত পরিবেশ তৈরী হয় , তাহলে আবার আসবে তারা অন্যথায় বাড়িতে বসে অলস সময় কাঁটানোই এর থেকে অনেক শ্রেয়

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শৈশবের স্কুল জীবন - আবু তাহের ইসলাম

হারানো দিনের বন্ধুত্ব - সানজিদা হোসাইন

মা - মীম আক্তার সামিয়া