সেই দিনটি - মোসাঃ আয়েশা সিদ্দিকা মেহনাজ
তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। একদিন আমরা চারজন ক্লাসমেন্ট
মাদরাসার নিচ তলায় পড়তে গিয়েছি। দিনটি ছিল বুধবার ।আমরা ক্লাস শেষে নিচ তলায় গেলাম।
কোনো এক কারণে আমরা সবাই তখন আতঙ্কিত ছিলাম। আমরা সাধারণত থাকতাম তিন তলায়। তাই আমরা
যখন সিঁড়ি দিয়ে নামছি, সে সময় হঠাৎ করেই কারেন্ট
চলে যায়। আর সিঁড়ির জায়গাটা অন্ধকার হওয়ায় সেখানে দিনের বেলায়
ও লাইট জ্বালানো থাকতো। কারেন্ট যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা অনেক ভয় পেয়ে গেলাম। এরই মধ্যে আমাদের সহপাঠী হাবিবার মাথা ঘুরিয়ে উঠলো। আমরা সাথে সাথে তাকে
ধরলাম। কিন্তু এরই মধ্যে কারেন্ট এসে আবার চলে গেল। এরপর থেকে আমরা হাবিবাকে পাচ্ছিলাম না। তখন নীচ তলায় কোনো শিক্ষকও ছিল
না। আমরা সবাই অনেক জোরে চিৎকার দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আবার কারেন্ট
চলে এলো।তখন দেখলাম, হাবিবা আমাদের পাশেই
দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এরপরে আমরা আর এক মুহুর্তও সিঁড়িতে
না দাঁড়িয়ে নীচ তলায় চলে এলাম। নীচে এসে আমরা পড়তে বসলাম। সবাই ক্লান্ত, এই ক্লান্তি দূর করতে
ওয়াশরুমে গেলাম ওজু করতে। এতে সওয়াবও হবে আবার হাত-মুখ ধোয়াও হবে। কিন্তু আমরা অজু করে এসে দেখি, নীচ তলায় কেউ নেই। আমি এবং স্বপ্না কাউকে দেখতে পাই
নি। বাকী সবাই বলছিল, তারা নাকি সকলকে দেখতে পাচ্ছে। একটুপর আবার কারেন্ট চলে যায়। এর মধ্যে একটা কথা বলে রাখি, আমরা যখন নীচ তলায়
এসেছিলাম,
তখন পড়ার আওয়াজ ছিল প্রচুর। মানে অনেকেই পড়ছিল। কিন্তু আমরা ওজু করে বের হওয়ার পর আর কোনো পড়ার আওয়াজ পাচ্ছিলাম না এবং কাউকে দেখতেও
পাচ্ছিলাম না। কিন্তু হাবিবা , জান্নাত ওরা সব-ই দেখতে
পাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর যখন কারেন্ট চলে আসলো তখন সব আবার ঠিক
হয়ে গেল। কিন্তু এর পরে একটা মজার কাণ্ড ঘটে যায়। আমরা সবাই
যখন একসাথে পড়ছি, তখন একটি ছেলে আসলো। নাম আব্দুল্লাহ। জান্নাতকে আমি সংক্ষেপে ‘সারা’ বলে ডাকি। সে সময় সারার আব্বু আসলো। তখন আব্দুল্লাহ এসে বললো, হুজুর শালার আব্বু এসেছে। এই কথা শুনে আমরা সবাই হেসে দিলাম। আব্দুল্লাহ তো বুঝতে পারছিল না
,
কেন আমরা হাসছি ! এদিকে আবার আব্দুল্লাহর কথা শুনে সারা রেগে
লাল হয়ে গেল।কিন্তু রেগে গেলে কি আর হবে , মারামারি, বকাবকি যেহেতু নিষিদ্ধ, তাই কিছু করার নেই! যাই হোক, সারা বাসায় চলে গেল
। এর কিছুক্ষণ পর হাবিবাও চলে গেল। তখন আমি আর স্বপ্না ছিলাম। সে সময় আমাদের আবার ভয় করছিলো। কিন্তু কথায় আছে, ‘যেখানে বাঘের ভয় ,সেখানেই রাত হয়’। তখন আবার কারেন্ট চলে গেল। আমি তখন হুজুরকে বললাম, হুজুর আমাদের ভয় করছে। তো হুজুর বললেন, তোমরা কর্ণারের রুমে
না থেকে মাঝের রুমে এসে বসে থাক। আমি তখন বললাম, মাঝের রুমে তো আরো ভয় পাবো। হুজুর বললেন, কোনো অসুবিধা নেই। আমি লাইট জ্বালিয়ে রাখছি। আমি আর স্বপ্না বললাম, লাইট জ্বালিয়ে রাখলেও
ভয় করে। হুজুর বললেন, তাহলে তোমরা কর্ণারের রুমে গিয়ে বসে থাক। আমরা তা-ই করলাম। হুজুর রুমের লাইটটা জ্বালিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। আমরা বসে বসে ভয় তাড়ানোর
জন্য সূরা ইয়াসিন পড়ছিলাম। তখন হঠাৎ করে নুপুরের আওয়াজ পেলাম। জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখি , বাহিরে সাদা কাপড় পরিহিত কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। আমি এটা দেখে অজ্ঞান
হয়ে গেলাম। যখন আমার হুশ ফিরলো তখন আমি বাসায়। শুনলাম, মাদরাসা নাকি বন্ধ দিয়েছে। কিন্তু কেন
বন্ধ দিলো , তা আমরা জানতে পারলাম না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন