ইলমা - সারাবান তাহুরা ঈশান
যুলি কোথায় যাচ্ছ? পিছন থেকে হঠাৎ ডাক শুনে একটু ভয় পেয়ে গেল সে।
তাকিয়ে দেখল কেউ নেই সেখানে। চমকে উঠলো যুলি। পেছনে তো কিছুই নেই। কিন্তু সে তো
দেখেছে জামগাছের নিচে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তার মুখ
ঢাকা ছিল সাদা কাপড় দিয়ে। হঠাৎ সামনে থাকা বটগাছটার দিকে তাকাল সে। দেখতে পেল
বটগাছের চূড়ায় একটা মেয়ে পা হেলিয়ে বসে আছে। কিন্তু পরক্ষণেই
সে চলে গেল কোথায় যেনো। ভয় পেয়ে যুলি দৌড় দিবে বলে মনস্থির করলো, ঠিক তখনি সামনের
দিকে তাকিয়ে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না! সামনে তো কবরস্থান। এখন কি করবে? পেছন ফিরে দৌড়
দিলো সে। তখুনি দেখলো, একটি মেয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। আশেপাশের কোথা থেকে যেন
ইলমার চিৎকার শোনা গেলো। জুলি "কি হয়েছে" বলে চেঁচিয়ে উঠলো। ইলমা দৌঁড়িয়ে
এলো জুলির নিকট। ইলমা ভয়ে জুলিকে জড়িয়ে ধরল, জুলিও ধরল। এমন সময় জুলির মনে হল, এটা ইলমা না, এটা অন্য কেউ।
কিন্তু সে কিছুই বুঝতে পারছে না। ইলমা নিজের চোখটা না দেখিয়ে পিছনে ফিরে বলল, যুলি! এত সকালে
তুমি এখানে কি করছ? জুলি
বললো এমনিতেই আসলাম। ইলমা বলল, আচ্ছা সন্ধ্যা বেলা আসতে পারবে? জুলি বললো কোথায়? ইলমা বলল, কবরস্থানের সামনে
অথবা এই বটগাছের পিছনে, ইশারায়
দেখিয়ে দিলো। অতঃপর ইলমা বলল, এখন তুমি যাও। জুলি বলল, পিছনে তো কবরস্থান। কোথায় যাব? তুমি যাও তো, বলল ইলমা। দৌড়ে
চলে গেল জুলি। জুলির
বড় বোন জিজ্ঞাসা করলো, এত তাড়াতাড়ি চলে এলে যে? যুলি তাকে বলল জানো আফরা আপু! আজ সকালে না
ইলমার সাথে দেখা হয়েছে। আফরা অবাক দৃষ্টিতে জিজ্ঞেস করলঃ কোথায়? জুলি বললঃ যেদিকে
দাদিমার কবর, ঐদিকে। আফরা চিৎকার করে
বললঃ জানিস না, ইলমা
গতকাল সন্ধ্যা বেলা মারা গিয়েছে। দাদিমার কবরের পাশে ওর কবর!
শিক্ষার্থী; চতুর্থ শ্রেণী, মারকাযুল ইসলাম মহিলা মাদ্রাসা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন