স্বপ্ন - ফাতেমা উম্মে হাবিবা

রিমা, কি করছো ?’ বলে উঠলো সামিয়া । রিমার হুশ ফিরলো এতক্ষণে। সে পুতুল নিয়ে খেলছিলরিমা সামিয়াকে দেখে বললো, ’আপু, তুমি আবার কখন আসলে ? এ সময় না তোমার স্কুলে থাকার কথা ?’ সামিয়া মুচকি হেসে বললো, ’আজকে শুক্রবার ,জানো না ?’ ’নাহ, ভুলেই গিয়েছিলাম’ ’ও আচ্ছা , কিন্তু কেন যে এখানে এসেছি , মনে করতে পারছি নাবললো সামিয়াও হ্যাঁ , মনে পড়েছেতোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিতে এসেছিএ কথা শুনে রিমা খুব খুশী হলো এবং পুতুলগুলো গুছিয়ে রেখে দিলোরিমা বললো, ‘কি সারপ্রাইজ আপু ?’ সামিয়া বললো , ‘দুপুরে আমরা নদীর পাড়ে যাবো । কথাটা শুনে রিমা খুশিতে লাফিয়ে উঠলো

কিছুক্ষণ পর নীল আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে কালো আকাশে রুপান্তরিত হলোপ্রচন্ড বাতাসের কারণে ঘরের বাহিরে যাওয়া যাচ্ছিলো না। বর্ষাকালে এই এক অসুবিধাবলা নেই, কওয়া নেই, ঝঁপ করে বৃষ্টি নেমে পড়েতখনি হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর পাশাপাশি প্রচণ্ড জোরে একটা বাজ পড়লো। ঘরের সবাই ভয় পেয়ে গেলরিমা বৃষ্টির সময় কখনো জাগ্রত থাকে নাযখনি বৃষ্টি আসবে আসবে ভাব তখনি সে ঘুমিয়ে পড়েকিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সে ঘুমিয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারে নাবাজের শব্দে রিমার ঘুম ভেঙ্গে গেলঘুম থেকে উঠে দেখলো, সে যে সামিয়া আপুর সাথে নদীর পাড়ে যাবে বলেছিল, সেটা স্বপ্ন ছিল  এটা মনে হতেই তার মন খারাপ হয়ে গেলএই সময় নদীর পাড়ে যাওয়ার মজাই আলাদা। একটুপর রিমা খেয়াল করলো, সে স্বপ্নে দেখেছিল, বাহিরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে । এখন দেখা যাচ্ছে ,  বাস্তবেই এমন বৃষ্টি হচ্ছেতার থেকে আশ্চর্যর বিষয় হলো, স্বপ্নে সে সামিয়া আপুকে যেখানে দাড়ানো অবস্থায় দেখেছিল, এখন সে সেখানেই দাঁড়িয়ে আছেকিছুটা অস্থিরতা বোধ করলো রিমা । সে ওয়াশরুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে আসলোতারপর সামিয়া আপুর কাছে গিয়ে দাড়ালোসামিয়া আপু জানালা দিয়ে বাহিরে বৃষ্টি দেখছেবৃষ্টি দেখাটা খুব ভালোসামিয়া আপু রিমার দিকে তাকিয়ে বললো, আজকে এত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেলা যে ? রিমা বললো, ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে

:

: আপু , আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম, বাজ পড়েছেঘুম থেকে উঠে দেখি, বাস্তবেই বাজ পড়েছে

: হুম । বৃষ্টির সময় তো বাজ পড়বেই

: আচ্ছা আপু , বাজটা কি আশেপাশে কোথাও পড়েছে? কারণ প্রচণ্ড জোরে শব্দ হলো যে, তাই।

সামিয়া হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো ঐ দিকেরিমা এটা দেখে বললো, আমি তো স্বপ্নেও এটা দেখেছিলাম যে, ঐখানে বাজ পড়েসামিয়া অবাক হয়ে বললো, সত্যি ! হঠাৎ করে রিমা খেয়াল করলো , তার আব্বু-আম্মু এবং বড় দুইভাই ঘরে নেইরিমা সামিয়া আপুকে জিজ্ঞাসা করলো,  আব্বু-আম্মু কোথায় ? সামিয়ার এ কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেলবললো, তারা মামার বাসায় গেছেমামা খুব অসুস্থরিমা কি বলবে বুঝতে পারছিল নাতাই সে তার রুমে এসে পুতুল দিয়ে খেলতে লাগলো। সামিয়াও তার নিজের রুমে চলে গেলপ্রায় কুড়ি মিনিট পর বৃষ্টি একদম কমে গেলসামিয়া রিমার নিকট এসে বললো, চল রিমা, নদীর পাড় থেকে ঘুরে আসি। শুনে রিমা খুশিতে লাফিয়ে উঠে বললো, সত্যি ! আমি তো এটাই ভাবছিলাম। একবার মনে হলো তোমাকে বলিপাছে তুমি যদি বকা দিতে তাই আর বলি নিএরপর রীমা তার পুতুলগুলো সেভাবেই গুছিয়ে রাখলো , যেভাবে সে স্বপ্নে গুছিয়ে রেখেছিলএকটু পর রীমা ভাবলো , স্বপ্নের জিনিষ তো কখনো সত্যি হয় না , কিন্তু আজ হয়ে গেলএটাকেই হয়তো বলে প্রকৃতির খেলা ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শৈশবের স্কুল জীবন - আবু তাহের ইসলাম

হারানো দিনের বন্ধুত্ব - সানজিদা হোসাইন

মা - মীম আক্তার সামিয়া