হুজুরের অবদান - শাহাদাত হোসাইন


নবীন দীপ্ত

হুজুর শব্দটি শোনা মাত্রই আমাদের মনের মধ্যে অনেক কৌতুহল জেগে উঠে। এমনিভাবে এই নামটি বর্তমান সময়ে আমাদের নিকট খুবই  ঘৃণা আর অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজে একটি প্রবাদ বাক্য প্রচলন আছে, “পানির অপর নাম জীবন”। ঠিক তেমনিভাবে বর্তমান সময়ে হুজুর শব্দের অপর নাম যেন ঘৃণা, অপমান, ঠাট্টা ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, হুজুর কিংবা মৌলভী সম্প্রদায় আজ সকলের চোখে  কাঁটা এবং বোঝা। অবহেলা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বস্তুর রূপ ধারণ করেছে। অথচ এই সমাজে মৌলভী সম্প্রদায়ের বহু অবদান রয়েছে। তাঁদের অনুদান আর অবদানের মধ্যে আমরা সর্বক্ষণ ডুবে আছি। যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা একটিবারও তা চিন্তা করি নাতার মধ্যে থেকে সবচেয়ে বড় তিনটি অবদান যা, এখানে বর্ণনা না করলেই নয়।

প্রথমত: হুজুর তথা উলামায়ে কেরামের অবদানে পৃথিবীর মানচিত্রে এখনও পর্যন্ত ঈমান-ইসলাম এবং মুসলমান বাকি আছে। তথা দৈনিক পাঁচবার মসজিদের মিনার থেকে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আযানের ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়।

ইমামের পিছনে নামায আদায় করতে পারা যায়। রাতের শেষ ভাগে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের সু-মধুর কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ এবং বুযূর্গানে দিনের চোখের পানি যার বিনিময়ে রব্বে কারীম আসমান থেকে রহমত ও সাহায্য নাযিল করেন।

যুগের অতন্ত প্রহরী উলামায়ে কেরামের আলোচনা ও লিখনির মাধ্যমে মানুষ সঠিক এবং মুক্তির পথ খুঁজে পাচ্ছে। মা বোনেরা বে-পর্দাকে ছুড়ে ফেলে পর্দার বিধানকে আঁকড়ে ধরছে। শুধু তাই নয়, যে সকল যুবক ছেলেরা সর্বক্ষণ মদ্যপানে অভ্যস্ত, তাস আর জুয়ার আড্ডায় থাকতো নিমজ্জিত, মানুষ হত্যা করা, অন্যের সম্পদ লুটপাট করা, গান-বাদ্য শোনা ছিল তাদের পেশাতারা এ সকল খারাপ কর্মকান্ড বর্জন করে দ্বীন ও শরীয়তের অনুসরণ করে চলছে।

যাদের মাথায় হ্যাটের পরিবর্তে সুন্দর টুপি, মুখে দাঁড়ি, পিস্তলের পরিবর্তে হাতে তাসবিহ, প্যান্ট-শাটের পরিবর্তে শরীরে সুন্নতি লেবাস, গালি আর অশ্লিল বাক্যের পরিবর্তে জবানে রব্বে কারীমের তিলাওয়াত-যিকির, সালাম-কালাম, সুন্দর আচরণ ইত্যাদি। এটা কি উলামায়ে কেরামের অবদান নয়! আমরা কি এটাকে কখনো অস্বীকার করতে পারবো? কখনোই নয়।

দ্বিতীয়ত: পুরো পৃথিবী টিকে আছে। অর্থাৎ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উদিত হচ্ছে আর পশ্চিমে অস্ত যাচ্ছে। গাছে সু-স্বাদু রং বেরঙের ফল হচ্ছে। কৃষকের জমিতে গোলা ভরা ধান উৎপন্ন করছে। আসমান থেকে রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ হচ্ছে। দক্ষিণা প্রান্ত থেকে শান্তিময় বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এ সকল নিয়ামত আমরা উপভোগ করছি। যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের উসিলায় দান করছেন।

তৃতীয়ত: মানুষের জীবনে প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে হুজুরের প্রয়োজন হয়। তিনটি গুরুত্বপুর্ণ সময়ে এমন আছে, তখন হুজুর ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। তখন কোনো দুনিয়াবী যোগ্যতা কাজে আসে না। ক্ষমতার বাহাদুরি আর অর্থ সম্পদের দম্ভ উপকার করতে পারে না। ব্যাংকের লক্ষ্য-কোটি টাকা আর প্রভাব প্রতিপত্তি ও বংশ মর্যাদার সবটুকুই তখন বেকার হয়ে দাঁড়ায়। শুধু মাত্র কেবল হুজুরেরদেরকেই তখন কাজে আসে। ঐ গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একটা হলো জন্মগ্রহণ করার সময়ে। যেমন বাচ্চাদের কানে আযান দেয়া। দুই: বিবাহের সময় অর্থাৎ বিবাহের কাজে হুজুরের দারস্থ হওয়া। তিন: মৃত্যুর সময়। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া, কাফন পরিধান করা, জানাযা পরানো, দাফনের কাজ সম্পন্ন করা ইত্যাদি। উল্লেখিত বর্ণিত বিষয়বলির কোনটি অস্বীকার করা যাবে না। তার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। কেননা বাস্তবতাকে কখনো অস্বীকার করা যায় না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুক। আমিন, ছুম্মা আমিন।


শাহাদাত হোসাইন

শিক্ষার্থী; মেশকাত জামাত, শায়েখ যাকারিয়া রহঃ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শৈশবের স্কুল জীবন - আবু তাহের ইসলাম

হারানো দিনের বন্ধুত্ব - সানজিদা হোসাইন

মা - মীম আক্তার সামিয়া