পিতা-মাতার ঋণ

  • যুবায়ের আহমাদ (কামরাঙ্গীরচর)

শান্ত ভদ্র এক ছেলেব্যস্ত জীবন কাটলে পিতা-মাতার প্রতি খুব খেয়াল রাখেযখন যা প্রয়োজন তা এনে দেয়ছেলেটা পেশায় একজন ব্যবসায়ীসারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকেসবার মুখে ছেলেটির প্রশংসাছেলেটি পিতা-মাতার খুব অনুরাগীসবার মুখে তার প্রশংসা দেখে সে ভাবলো, আচ্ছা আমি যে তাদের জন্য এত কিছু করছি, তারা কি আমার শিশুকালে  আমার জন্য এত কিছু করছে কথা সে মনে চেপে না রাখতে পেরে বাবাকে  বললো, বাবা! আমি তোমার ঋণ পরিশোধ করতে চাইতোমরা শৈশবে আমার জন্য যেই কষ্ট করেছ, আমি তার ঋণ শোধ করতে চাইপিতা ছিলেন বেশ বুদ্ধিমানবুঝতে পারলেন, ছেলে ভুলের মধ্যে রয়েছেতাই যা করতে হবে কৌশলেই করতে হবেপিতা বললেন, ঠিক আছেতুমি চেষ্টা শুরু করোএমনিতেই তো আমাদের জন্য তুমি অনেক কিছু করেছতখন ছেলে বললো, বলো তো বাবা, তোমার এখন কি খেতে ইচ্ছে করছে? বাবা বললেন,তেমন কিছু নয়তবে পেয়ারা খেতে ইচ্ছা করছেছেলে মনে মনে ভাবলো, আবার এমন কঠিন জিনিষ নাকি! এই ভেবে ছেলেটি বাজার থেকে পেয়ারা নিয়ে আসলোএনে পিতার সামনে রাখলোবললো, যত পারো, খাওপিতা বললেন, এখানে নয়ছাদে গিয়ে খাবো

: আচ্ছা ঠিক আছেচলো

: আমি তো হাঁটতে পারছি না

তখন ছেলেটি পিতাকে কাধে করে নিয়ে গেল ছাদেপিতা এক এক করে সবগুলো পেয়ারা নিচে ফেলে দিলেনছেলেটি তখন নিচ থেকে সেগুলো কুড়িয়ে আনলোআবার তিনি নিচে ফেলে দিলেনছেলে আবার কুড়িয়ে আনলোতিনি আবার ফেলে দিলেনএভাবে কয়েকবার করার পর ছেলেটি রেগে গিয়ে বললো, খেতে মন চাইলে খাওফেলে দিচ্ছ কেন?

তখন পিতা বললেন, ছোটবেলায় তুমি অসংখ্যবার খেলনার বল ফেলে দিয়েছিলেতাও এক-দুদিন নয়বরং বছরের পর বছরএত কিছুর পরও আমি তোমার উপর রাগ করি নিআর তুমি তো একদিনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোয় রাগে অস্থির হয়ে গিয়েছছেলেটি তখন নিজের ভুল  বুঝতে পারলোআসলে মা-বাবার ঋণ কখনো পরিশোধযোগ্য নয়


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শৈশবের স্কুল জীবন - আবু তাহের ইসলাম

হারানো দিনের বন্ধুত্ব - সানজিদা হোসাইন

মা - মীম আক্তার সামিয়া