লালবাগ কেল্লা, স্মৃতিময় এক ঐতিহ্য

লালবাগ কেল্লা, স্মৃতিময় এক ঐতিহ্য

  • আব্দুর রহমান আল হাসান

স্মৃতি বিজড়িত এই লালবাগের কেল্লা একেবারে ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত এটি এর আদি নাম ঔরঙ্গবাদ কেল্লা এটা নির্মাণ করা হয় মোগল আমলে তখন মোগল বাদশাহ ছিলেন সম্রাট আরঙ্গজেব এবং এই কেল্লা নির্মাণ করা হয় ১৬৭৮ খৃষ্টাব্দে এর নির্মাতা হলেন সম্রাট আরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মোহম্মাদ আজম কিন্তু তিনি এর নির্মাণ কাজ সম্পূন্ন করতে পারেন নি পরবর্তীতে এর কাজ সমাপ্ত করেন সুবেদার শায়েস্তা খাঁ আর এই দুজনেই ছিলেন ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মোগল প্রশাসক বর্তমানে এর পূর্ব-পশ্চিমে দৈঘ্য হলো ৩২৯. মিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে চওড়া হলো ২৪৩. মিটার তবে আগে চওড়াও ছিল ৩২৯. মিটার আর এটার প্রধান ফটক ছিল দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আমরা এখন যেই ফটক দিয়ে কেল্লায় প্রবেশ করি তা এর মূল ফটক নয় আমরা যদি রাস্তার দিক থেকে এই ফটকের দিকে মুখ করে দাঁড়াই তাহলে একটু দূরেই আমাদের বামপাশে একটা ফটক দেখতে পাবো সেটাই হলো লালবাগ কেল্লার মূল ফটক জানা যায়, এই কেল্লা নির্মাণ করা হয়েছিল পর্তুগিজদের আক্রমণ ঠেকাতে পর্তুগিজরা এই ভারতবর্ষে ব্যবসার  উদ্দেশ্যে আসতো তারা জিব্রাটার  প্রণালী পাড়ি দিয়ে ভূমধ্য সাগর হয়ে সুয়েজ খাল দিয়ে লহিত সাগরে প্রবেশ করতো তারপর আরব সাগর হয়ে ভারত মহাসাগর পাড়িদিয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতো তারপর মেঘনা, বুড়িগঙ্গা, পদ্মা এবং তিস্তা নদী পাড়ি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতো অনেক সময় তারা বাংলার নিরীহ মানুষদের ঘর-বাড়ি ভাংচুর করতো কারণে মোগল সম্রাট আরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মোহাম্মাদ আজম এই কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন আমরা বর্তমানে কেল্লার মোড়ে একটা বুরুজ দেখতে পাই তৎকালীন সময়ে এখানে তোপ রাখা হতো যখনই কোনো শত্রু জাহাজ নজরে পড়তো তখনই শুরু হতো গোলা বর্ষণ এর ফলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হতো ১৯৭১ সনে যখন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয় তখন পাকিস্তানী সৈন্যরা এই লালবাগ দুর্গকে ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করতো ১৯৭২ সনে দেশ স্বাদীন হওয়ার পর এই কেল্লা প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের হাতে চলে আসে তখন থেকে এই কেল্লা তাদের হেফাজতে আছে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শৈশবের স্কুল জীবন - আবু তাহের ইসলাম

হারানো দিনের বন্ধুত্ব - সানজিদা হোসাইন

মা - মীম আক্তার সামিয়া