চেষ্টা- কোরআন হাদীসের কথা
চেষ্টা মানব জীবনের এক অবিচ্ছন্ন অংশ। প্রত্যেকটি কাজের জন্য চেষ্টা প্রয়োজন। চেষ্টা ব্যতিত কেউ সফল হতে পারে না। আমাদের আশেপাশে যখন কোথাও আগুন লাগে তখন আমরা দেখতে পাই , সকল মানুষ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে আগুন নেভানোর জন্য। যত তাড়াতাড়ি আগুন নেভানো যায়, তত ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। কেউ যদি নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সর্বদা চেষ্টা করে যায় , তাহলে সে একদিন তার লক্ষ্যে সফল হবেই। আল্লাহ কোরআনে সূরা আম্বিয়ার ৯৪ নং আয়াতে বলেন,
”কেউ যদি মু’মিন হয়ে সৎ কাজ করে
,
তবে তার প্রচেষ্টা অস্বীকার করা হবে না , আমি তা তার জন্য লিখে রাখি ।”
যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো সৎকাজের নিয়্যত করবে , সে তার প্রতিদান দুনিয়াতে পাবে । আর আখেরাতে তো রয়েছে অফুরন্ত
নেয়ামতের ভাণ্ডার জান্নাত।
হাদীসে এই চেষ্টা সম্পর্কে অনেক ঘটনা আছে। তার
মধ্যে একটা উল্লেখ করছি।
আবূ
সাঈদ (রহঃ) থেকে
বর্ণিত : তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একদল সাহাবী
কোন এক সফরে যাত্রা
করেন। তারা এক
আরব গোত্রে পৌঁছে
তাদের মেহমান হতে চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। সে
গোত্রের সরদার বিচ্ছু দ্বারা দংশিত হলো। লোকেরা তার (আরগ্যের) জন্য সব ধরনের চেষ্টা
করল। কিন্তু কিছুতেই কোন উপকার
হলো না, তখন তাদের কেউ বলল, এ কাফেলা যারা এখানে অবতরণ করেছে তাদের
কাছে তোমরা গেলে
ভালো হত। সম্ভবত, তাদের কারো কাছে কিছু থাকতে পারে। ওরা তাদের
নিকট গেল এবং
বলল, হে যাত্রীদল! আমাদের
সরদারকে বিচ্ছু দংশন করেছে, আমরা সব রকমের
চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুতেই উপকার হচ্ছে না। তোমাদের কারো কাছে কিছু
আছে কি? তাদের (সাহাবীদের) একজন বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ্র কসম আমি
ঝাড়-ফুঁক করতে পারি। আমরা তোমাদের
মেহমানদারী কামনা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা আমাদের জন্য মেহমানদারী করনি। কাজেই
আমি তোমাদের ঝাড়-ফুঁক করব না, যে পর্যন্ত না তোমরা, আমাদের জন্য
পারিশ্রমিক নির্ধারণ কর। তখন
তারা এক পাল বকরীর
শর্তে তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলো। তারপর তিনি গিয়ে “আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন” (সূরা ফাতিহা) পড়ে তার উপর ফুঁ দিতে লাগলেন। ফলে সে (এমনভাবে নিরাময় হলো) যেন
বন্ধন হতে মুক্ত হলো এবং সে এমনভাবে চলতে ফিরে লাগল যেন তার কোন কষ্টই ছিল না।
(বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর তারা তাদের
স্বীকৃত পারিশ্রমিক পুরোপুরি দিয়ে দিল। সাহাবীদের কেউ কেউ বলেন, এগুলো বণ্টন কর।
কিন্তু যিনি ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন তিনি বললেন এটা করব না, যে পর্যন্ত না আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে এই ঘটনা জানাই এবং
লক্ষ্য করি তিনি আমাদের কী নির্দেশ দেন। তারা
আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে
ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি [নবী
(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বলেন, তুমি কিভাবে জানলে যে, সূরা ফাতিহা একটি দু’আ? তারপর বলেন, তোমরা ঠিকই করেছ। বণ্টন কর এবং
তোমাদের সাথে আমার জন্যও
একটা অংশ রাখ। এ বলে নবী(সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২২৭৬
উক্ত হাদীসটিকে দেখ, সেই সাহাবা জানতেন না , সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁক দিলে রোগ ভালো হয়ে যায় । কিন্তু তিনি চেষ্টা করে গিয়েছেন এবং অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস রেখেছিলেন। এতেই তিনি সফলকাম হলেন ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন