এক্সিডেন্ট - সালমান ইউসুফ
এসব দেখার সময় নেই। একটি খালি রিকশা দেখে বললাম, চাচা মগবাজার যাবেন ? বললেন, যাবো। ”কত” জিজ্ঞাসা করলাম ।
বললো,
আশি টাকা।
কোনো কথা না বলে হাঁটা দিলাম। পকেটে এখন পঞ্চাশ
টাকার বেশি এক আনাও নেই। রিকশাওয়ালা কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করে চুপ হয়ে গেল। তাদের নিকট এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। তাড়াতাড়ি হাটঁতে
গিয়ে একটি উঁচু জায়গায় পড়তে পড়তে বেঁচে গেলাম। মনের মধ্যে এখন একটা জিনিষই ঘুরপাক খাচ্ছে। শাহেদ এক্সিডেন্ট
করেছে। কীভাবে আর কোথায়
এক্সিডেন্ট করেছে, তা এখনো জানি না। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সে । তার ইচ্ছা , অক্সফোর্ট থেকে ডক্টরেস্ট নিবে। আমাদের বন্ধুমহলে তার কদর
অনেক। হাজার হোক, ঢাবির শিক্ষার্থী সে। সেখানে চান্স পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। আমি মৌচাক মার্কেট
পার হয়ে মগবাজারের পথ ধরলাম। সিদ্ধশ্বরী মসজিদ পার হওয়ার পর মাইকে শুনলাম, “একটি শোক সংবাদ ”। কে মারা গিয়েছে ,এখন শোনার টাইম নেই । মিনিট দশেকের মধ্যে ওয়ারলেস এসে ইমরানকে ফোন দিলাম । সে
ফোন রিসিপ করছে না। দ্বিতীয়বার ফোন দিতে যাবো তখনি ওয়ারলেস কনফিকশনারি থেকে ইমরানকে বের হতে
দেখলাম । আমি গিয়ে তখন তাকে বললাম, কিরে খবর শুনেছিস ?
সে বললো, হুম ।
:
কোন হসপিটালে নিয়েছে ?
:
কমিউনিটিতে।
আমি ইমরানকে সাথে নিয়ে কমিউনিটি হাসপাতালে
গেলাম। রিসিপসনে যোগাযোগ করে আইসিও তে গেলাম। শাহেদ ভাই মারাত্মক এক্সিডেন্ট করেছে। ডাক্তারকে বললাম , জনাব! বাঁচবে তো ? তিনি আমাকে বললেন , আল্লাহ জানেন। ঘন্টা দুয়েক পর
আমরা শাহেদ ভাইয়ের সাথে দেখা করার অনুমতি পেলাম। তার সারা শরীর ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধা। শুধুমাত্র
মুখটা খোলা। শাহেদ ভাইয়ের এই দুরবস্থা দেখে খুব কষ্ট লাগলো। তিনি আমার হাত ধরে বললেন, সালমান সাবধানে থাকিস। আমার কথা মনে রাখিস।
এই কথা বলে শাহেদ
ভাই সেই যে চোখ বন্ধ করলেন আজ অবধি খুললেন না।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন